সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুন ৯, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রোহিঙ্গা সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়

  রোহিঙ্গা সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয় ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে একটি উদার ও মানবিক রাষ্ট্রের পরিচয় দিয়েছে। মানুষের পাশে অবশ্যই মানুষের দাঁড়ানো উচিত। সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সালের আগস্টের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এর সংখ্যা আনুমানিক ১১ লাখ। সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য ৬ হাজার একর বনভূমি বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশের বনভূমি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর বিরাট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। ইউএনডিপি বাংলাদেশের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পরিবেশগত বিপর্যয় নিয়ে ২০১৮ সালে একটি কাজ করেছিল। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজার এলাকায় তখন প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছিল। এ সময় প্রায় ৪৩০০ একর পাহাড় ও বনাঞ্চল কেটে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। প্রতিবেদন মতে, এখানকার ১৫০২ হেক্টর বন এখন সংকুচিত হয়ে ৭৯৩ হেক্টরে নেমেছে। টেকনাফ-উখিয়া-হিমছড়ির প্রায় ৩০০০ থেকে ৪০০০ একর পাহাড়ি এলাকা বাগানের জন্য পরিষ্কার করা হয়েছে। যে হারে জ্বালানি কাঠ কাটা হচ্ছে তাত...

আমাজনের আগুন ও বাংলাদেশের বন ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

আমাজনের আগুন ও বাংলাদেশের বন ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র 🕐 ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯        আমাজন বন পৃথিবীর আটটি দেশের ওপর অবস্থিত। এটি দক্ষিণ আমেরিকার ৪০ ভাগ এলাকাজুড়ে রয়েছে এবং একে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়। পৃথিবীর ২০ ভাগ অক্সিজেনের জোগান দেয় এই বন। পৃথিবীর ১০টি প্রাণী প্রজাতির মধ্যে একটি বাস করে আমাজনে। ব্রাজিলের প্রায় ৬০ ভাগ সীমান্তজুড়ে আমাজন বন দেখা যায় বা ব্র্রাজিলের প্রায় ২ দশমিক ১ মিলিয়ন বর্গ মাইলজুড়ে এই বন। এটি কার্বনের আধার আর সবচেয়ে বৃহৎ জীববৈচিত্র্যের বাসভূমি। বিশ্বের শতকরা ২০ ভাগ অক্সিজেন তৈরি হয় এখানে। আমাজন না থাকা মানে শতকরা এই ২০ ভাগ অক্সিজেন না থাকা। এর ফলে অনেক প্রাণী প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে। পৃথিবীতে প্রতি বছর যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ঘটে তার ২ দশমিক ২ বিলিয়ন টন শুষে নেয় এই বন। আমাজনে ১৬ হাজার প্রজাতির ৩৯০ বিলিয়ন গাছ-গাছালি আছে। এখানে ৪৫ লাখ প্রজাতির পোকামাকড়, ৩৭৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে। এছাড়া আমাজন নদীতে তিন হাজার প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আছে। আমাজন থেকে মানুষসহ পৃথিব...

গাছ কাটা কেন বন্ধ হয় না ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  গাছ কাটা কেন বন্ধ হয় না ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘গাছ কেটো না’ শিরোনামে একটি কবিতা আছে। এর প্রথম কয়েকটি লাইন এমন- কাল যে ছিল গাছের সারি/ আজ পড়েছে কাটা, / রাস্তা দিয়ে তাই তো ভারী/ শক্ত হলো হাঁটা। / রোদ্দুরে গা যাচ্ছে পুড়ে/ এখন রাস্তাঘাটে/ বাইরে গেলেই ভরদুপুরে/ এখন চাঁদি ফাটে। সনাতন ধর্মে তো বেশ কিছু গাছের সরাসরি পূজা করা হয়। যেমন - তুলসী, অশ্বত্থ, বেল, নিম, বট, আমলকী। তুলসীগাছকে এরা শুভ ও মঙ্গলসূচক মনে করে। এখানে তুলসীকে লক্ষ্মীর রূপ মনে করা হয়। অশ্বত্থগাছে ত্রিদেব দেবতা বাস করেন বলে এর রোপণ ও রক্ষা করলে ধনদৌলত, স্বর্গ ইত্যাদি লাভ হয় বলে মনে করা হয়। নিমগাছে নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে বলে এটি বাসা বা অফিসে লাগিয়ে রাখা হয়। বটকে পবিত্র বৃক্ষ মনে করেন সনাতনীরা। এটি মানুষের দীর্ঘায়ু দান করে বলেও মনে করেন তারা। বৃক্ষদেবতা আর নেই। সত্যি গাছ নেই। যে বৃক্ষের বুকে মুখ বুজে মানুষের জন্ম-মৃত্যু-বেঁচে থাকা, সেই বৃক্ষই এখন আর নেই। চারপাশে শুধু কংক্রিট। চারপাশে শুধু ইট-পাথরের দেয়াল। পত্রিকার পৃষ্ঠা ওল্টালেই প্রায় দেখা যায় গাছ কাটার মহ...

প্রয়োজন পরিকল্পিত সামাজিক বনায়ন ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  প্রয়োজন পরিকল্পিত সামাজিক বনায়ন ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র  আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ০৭:৪১ এএম|প্রিন্ট সংস্করণ সারা বিশ্বেই বনের আশপাশের স্থানীয় জনগণ বনকে যেমন ব্যবহার করে, তেমনি রক্ষণাবেক্ষণও করে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় প্রায় ১৪০ মিলিয়ন মানুষ বনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। সামাজিক বনায়ন একটি বিকল্প বন ব্যবস্থাপনা। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ বনে বাস করে এবং একই সঙ্গে বনকে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। এর মাধ্যমে তাদের অধিকার ও স্থানীয় জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বন রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য যেমন দূর করা হয়, তেমনি স্থানীয় অধিবাসীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন করা হয়। এটি খুব সহজেই কম খরচের মাধ্যমে করা যায়। বাংলাদেশ বন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশটিতে ২.১৬ মিলিয়ন বন রয়েছে, যা প্রায় ১৪ শতাংশ। অনেকের তথ্যমতে, অনেক জেলায় বনের তথ্য নেই। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালে বন হ্রাসের হার ছিল ২.১ শতাংশ, ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালে এটি কমে হয়েছে ০.২ শতাংশ। তারপরও বন হ্রাসের বৈশ্বিক হার (০.১ শতাংশ) থেকে বেশি। বন হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দা...

ইকোপার্ক : লাভের চেয়ে কি ক্ষতিই বেশি ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র