সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্লাস্টিকের পৃথিবী ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  প্লাস্টিকের পৃথিবী ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৪, ০৯:০৮ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে স্লোগান ছিল—‘সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিকদূষণ’। আমরা পণ করেছি, পণ করার পর কি পণের কথাটি মনে রেখেছি? প্লাস্টিক আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে। বিজ্ঞানী বেকল্যান্ড এটি আবিষ্কার করেন। এটি পেট্রোলিয়াম দিয়ে তৈরি একটি যৌগ। বেকল্যান্ড এটি আবিষ্কার করার সময় কি ভেবেছিলেন, এর ব্যবহার এতটাই হবে যে একদিন পুরো পৃথিবীটাই প্লাস্টিকে ঢেকে যাবে।  বিশ্বে প্রতিবছর প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয় প্রায় ৪৫ কোটি টন। প্লাস্টিক বর্জ্য ৪০০ বছর পর্যন্ত পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রাখতে পারে। প্লাস্টিকদূষণকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। প্লাস্টিক এখন সাগরের তলদেশ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশ্বে প্রতি মিনিটে প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয় প্রায় ৫ লাখ। বিশ্বে বছরে ৮০ লাখ টন বর্জ্য সাগরে মিশে যায়। একটি গবেষণার তথ্যমতে, দোকানে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ২০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর বোতল হিসেবে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ...

সুন্দরবন অরক্ষিত বন্য প্রাণী

সুন্দরবন অরক্ষিত বন্য প্রাণী ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১০:১৪ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র সুন্দরবনের পরিবেশ আগের মতোই থাকবে তো? বেঁচে থাকবে তো বাংলাদেশের গৌরবদীপ্ত-উজ্জ্বল-ক্ষিপ্র-তেজি-রাজসিক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার? অনেক বিজ্ঞানী অবশ্য বলছেন, আগামী ৫০ বছরে হয়তো বা এ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কেননা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার ওপর নির্ভর করে বাঘের প্রজনন। সে প্রজননের পরিবেশ টিকিয়ে রাখাই এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা একদিকে সুন্দরবনের নিকটবর্তী শিল্পকারখানা গঠন করা হচ্ছে, অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে; অন্যদিকে খালে বিষ প্রয়োগ করে ধরা হচ্ছে মাছ। এতে বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানছে। সুন্দরবেনর আয়তন মোট ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। এর ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে আর ৩৮ শতাংশ ভারতে পড়েছে। এটি পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার কিছু এলাকা এ বনের বাংলাদেশ অংশ। সুন্দরবন ১৯৯২ সালে রামসার এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়। পরে ১৯৯৭ সালে একে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো। সুন্দরবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক ...

হাতি হত্যা কি বন্ধ করা যাবে না ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  হাতি হত্যা কি বন্ধ করা যাবে না ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশে যে হাতিটি দেখা যায় এটিকে এশিয়ান এলিফ্যান্ট বা এশীয় হাতি বলে। এই এশীয় হাতি ১৩টি দেশে দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্য মতে, ২০০৪ সাল থেকে পরবর্তী ১৭ বছরে বাংলাদেশে হাতি হত্যা করা হয়েছে ১১৮টি। আরেকটি তথ্য অনুযায়ী হাতি-মানব দ্বন্দ্বে ২৩৬ জন মানুষ মারা গেছে। আইইউসিএন-এর তথ্য অনুয়ায়ী বাংলাদেশে তিন ধরনের হাতি দেখা যায়। কিছু হাতি তাদের আবাসস্থলে বাস করে। কিছু হাতি পরিব্রাজন করে। কিছু হাতি পোষ মানা। বন্য হাতি যারা, তারা তাদের আবাসস্থলে বাস করে, তাদের সংখ্যা ২৬৮। পরিব্রাজনকারী হাতির সংখ্যা ৯৩। পোষ মানা হাতির সংখ্যা ৯৬। বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত পাঁচ শর মতো হাতি ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী এই হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৮ থেকে ৩২৭-এ। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা ২৬৩টি, যার ৫৫ ভাগই কক্সবাজার এলাকার। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছাড়াও মানব-হাতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায়।  প্রতিবছর শ্রীলঙ্কায় ২০০ হাতি হত্যা হয়। ভারতে মানুষ-হাতি সংঘর্ষে মারা পড়ে বছরে ১০০...

শুশুকের অসুখ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৪ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দৈনিকগুলোয় হালদা নদীতে ডলফিন মারা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে দুই প্রজাতির ডলফিন রয়েছে। একটিকে গাঙ্গেজ ডলফিন বলা হয়, আরেকটি ইরাবতী ডলফিন। গাঙ্গেজ ডলফিনকেই শিশু বা শিশুক বা শুশুক বলা হয়। এটি মূলত মিঠাপানির ডলফিন। আর ইরাবতী ডলফিন সাগর বা সাগর নিকটবর্তী নদীতে পাওয়া যায়। হালদা নদীর ডলফিনকে শুশুক বলা হয়। এটি গাঙ্গেজ ডলফিন। হালদা নদী বাংলাদেশের পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। এটি খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় পড়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১০৬ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৩৪ মিটার। নদীটি দেখতে সর্পিলাকার। হালদা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। এই নদীতে জোয়ার-ভাটা ঘটে। মিঠাপানির মাছ এই নদীতে ডিম ছাড়ে। হালদা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখানে কার্পজাতীয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ ডিম পাড়ে। সেই ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এমন নদী নেই, যেখান থেকে মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ডলফিন পাওয়া গেছে ১৬৭টি, ২০২০ সালে ১২৭টি। গাঙ্গেয় ডলফিন পৃথি...

বিপন্ন হালদা মনুষ্যসৃষ্ট অপরিনামদর্শিতার অভিঘাত

  বিপন্ন হালদা মনুষ্যসৃষ্ট অপরিনামদর্শিতার অভিঘাত ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১৪:৫৭ পিএম  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র ২০১৭ সালে তৌকীর আহমেদ ‘হালদা’ নামে একটি সিনেমা পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে দেখানো হয়েছিল হালদা নদীর দূষণ আর হালদার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শত শত জেলের দুঃখীজীবনের দৃশ্য। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৭ বছর। জেলেদের কান্না এখনও থামেনি। থামেনি নদীর কান্নাও। হালদা বাংলাদেশের পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। এটি খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় পড়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১০৬ কিলোমিটার, প্রস্থ ১৩৪ মিটার। এ নদীটি দেখতে সর্পিলাকার। হালদা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। এ নদীতে জোয়ারভাটা ঘটে। মিঠা পানির মাছেরা এ নদীতে ডিম ছাড়ে। হালদা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ারভাটার নদী যেখানে কার্পজাতীয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ ডিম পাড়ে। সে ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এমন নদী নেই, যেখান থেকে মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়।  এটি একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র যেখানে রুই বা কার্প জাতীয় মাছ ডিম পাড়ে আর তা সংগ্রহ করে জেলেরা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এপ্রিল, মে, জুনÑএ তিন মাসের যেকো...

বন্যা বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব সংকট ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

  বন্যা বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব সংকট ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৪৫ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র বন্যা হলোÑযেখানে পানির প্রবাহ স্বাভাবিকের চাইতে বেশি থাকে। কোনো নদী থেকে সৃষ্টি হয়ে সমতলভূমিকে প্লাবিত করে। কিন্তু বাংলাদেশের বন্যা ভিন্ন। এখানে বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় প্রভৃতি পানিতে ভেসে যায়। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ডুবে যায়। বাংলাদেশে মূলত তিন ধরনের বন্যা দেখা যায়। এগুলো হলো মৌসুমি বন্যা, আকস্মিক বন্যা ও জোয়ারে সৃষ্ট বন্যা। মৌসুমি বন্যা হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ে। এতে নির্দিষ্ট এলাকা প্লাবিত হয়। ফসল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে। আকস্মিক বন্যা হয় পাহাড়ি ঢল বা হঠাৎ অনবরত বৃষ্টি থেকে। আর জোয়ারের সময় যে বন্যা হয় তাকে জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যা বলে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। অর্থাৎ ১৮ শতাংশ এলাকা বন্যার কবলে পড়ে। বন্যা ব্যাপকভাবে হলে ৫৫ শতাংশ ডুবে যায়। বাংলা অঞ্চলে প্রতি শতাব্দীতেই অর্ধডজন বন্যা দেখা গেছে। এসব বন্যা ভয়াবহ বন্যা হিসেবেই স্বীকৃত। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকবারই বন্যার দেখা দিয়েছে। বাং...

সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে বন্যার প্রভাব ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে বন্যার প্রভাব ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বন সুন্দরবন। এটি ম্যানগ্রোভ বন নামেও পরিচিত।  এর আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। মোট আয়তনের ৪.০৭ শতাংশ ম্যানগ্রোভ বন। এসব বনের বেশির ভাগ এলাকায় জোয়ার-ভাটা হয়। ফলে এই বনের গাছপালা বেশ লবণাক্ততা সহনশীল হয়ে থাকে। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, বাইন, ধুন্দুল, কেওড়া, গোলপাতা ইত্যাদি এই বনের প্রধান বৃক্ষ। এখানকার উল্লেখযোগ্য বন্য প্রাণী হলো বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি। সুন্দরবনে প্রায় ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণীর বসবাস। এর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, আট প্রজাতির উভচর ও মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী আছে। এখানে প্রায় ৫০ প্রজাতির পাখির বাস। একটি তথ্য মতে, সুন্দরবনে হুমকির মুখে আছে দুই প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি ও পাঁচ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী।১৯৯৬ সালে সুন্দরবনে তিনটি অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১২ সালে এখানে তিনটি ডলফিন অভয়ারণ্য করা হয়। ২০১৪ সালে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়।  ১...

অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে জলজ বন্য প্রাণী ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে জলজ বন্য প্রাণী ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র  প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৫ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র  জলজ প্রাণী বলতে সেসব প্রাণীকেই বোঝায় যারা মেরুদণ্ডী বা অমেরুদণ্ডী, জীবনচক্রের সমস্ত বা বেশির ভাগ সময় জলে কাটায়। জলজ প্রাণীরা সাধারণত ফুলকা বা ত্বকের মাধ্যমে শ্বাসকার্য চালায়। মোট প্রাণী প্রজাতির ৪০ ভাগের আশ্রয়স্থল জলাভূমি। প্রতিনিয়ত এসব জায়গা থেকে নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশাল বড় একটা প্রাণী প্রজাতি জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৬৪ প্রজাতির উভচর তো বটেই, ৮৩ প্রজাতির সৈকত পাখি, ৩০ প্রজাতির বুনোহাঁস, ৮ প্রজাতির শামুকখোল, ১৮ প্রজাতির বগলাসহ অসংখ্য প্রজাতি জলাভূমির ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। এ ছাড়া প্রতিবছর শীতের সময় বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী পাখি বাংলাদেশে আসে, যাদের আবাসস্থল ও খাবার দুটোই জলাভূমিকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইন অনুযায়ী জলাভূমি বলতে বোঝায় স্যাঁতসেঁতে জলনিমগ্ন ভূমি, যার পানি মিঠা বা নোনা হতে পারে, তা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম হতে পারে এবং স্রোতহীন বা ৬ মিটার গভীর হতে পারে। রামসার কনভেনশন অনুযায়ী জলাভূমি বলতে প্রাকৃতি...

আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড বন্ধ হোক ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

  × উপকূলীয় বন ধ্বংস আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড বন্ধ হোক ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৪৯ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র রাস্তার ধার ও বেড়িবাঁধ বরাবর গাছপালা লাগিয়ে যে বেষ্টনী করা হয় তা-ই সবুজ বেষ্টনী। উপকূলবরাবর বৃক্ষ রোপণ করে যে বনায়ন করা হয় তা-ই উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী। জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর আগে ১৯৬৬ সালে ম্যানগ্রোভ বনায়ন শুরু হয়। মূলত জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা এবং কৃষিজমি, জানমাল রক্ষায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী উপকূলীয় এলাকায় জেগে ওঠা চরে ১৯৬৫ সাল থেকে বন সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাকে প্যারাবনও বলা হয়। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও কক্সবাজার জেলায় এ প্যারাবন গড়ে উঠেছে, যা নানাভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে জানমাল ও দেশ রক্ষা করে যাচ্ছে। প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর ভূমিতে এ বন তৈরি করা হয়েছে। এটি দেশের আয়তনের ১.৩৬%। বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনের পরিমাণ ১২.৫০%। এ প্যারাবনের কেওড়া, ছইলা, বাইন, গোলপাতা প্রভৃতি উদ্ভিদ প্রজাতি দেখা যায়।...

সেন্ট মার্টিনের সুরক্ষা জরুরি ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  সেন্ট মার্টিনের সুরক্ষা জরুরি ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের নাম সেন্ট মার্টিন। এটি কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে। এর স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। সেন্ট মার্টিনের ডাব অত্যন্ত সুস্বাদু। এখানে কোরাল, সুন্দরী পোয়া, ইলিশ, রূপচাঁদা, কালাচাঁদা প্রভৃতি পাওয়া যায়। এখানে স্বচ্ছ পানিতে যেমন জেলিফিশ দেখা যায়, তেমনি নারকেলগাছের দীর্ঘ সারি মানুষকে আকৃষ্ট করে সহজেই। একটি তথ্য মতে, এখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করে। বলা হয়ে থাকে, আনুমানিক ৩০০ বছর ধরে এখানে মানুষ বসবাস করছে। দিন দিন এই দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। ১৯৯৯ সালে দ্বীপটিকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করলেও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেই চলেছে। মূলত প্রতিদিনই এখানে পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত থাকে, যা পরিবেশদূষণ করেই চলেছে। পর্যটকদের অসচেতনতা ও দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণের কারণে জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে।পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে দ্বীপটি বাঁচানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রবাল, সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক কাছিম, লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুকসহ অনেক কিছুই বিলুপ্তির সম্মুখীন। সেন্ট মার্টিনে প্রবাল উ...

বনখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

বনখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে   ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:২০ বন এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ যেখানে প্রাকৃতিকভাবে গাছপালা পশুপাখি সবাই মিলে একসাথে থাকে। বনের আয়তন বিশাল হয়ে থাকে যেখানে নানা বৃক্ষরাজি, ছোটবড়ো ঝোপঝাড় থাকে। থাকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, পাখি ও কীটপতঙ্গ। এখানকার ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্যর জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, কোথাও শুকনা, কোথাও জলাশয়ে পূর্ণ থাকে। বন নানা রকম হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এই প্রাকৃতিক বনের ব্যবহার বহু আগে থেকেই রয়েছে। বাংলাদেশে পাহাড়ি বন, ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বন, শালবন, কৃত্রিম বন প্রভৃতি নানা রকম বন দেখা যায়। পাহাড়ি বন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলায় অবস্থিত। বৃহত্তর খুলনা জেলায় অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন। বৃহত্তর পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ভোলা জেলায় উপকূলীয় বন অবস্থিত। এছাড়া বৃহত্তর   ঢাকা , ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাংগাইল, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় শালবন রয়েছে। পাহাড়ি বনের পরিমাণ ১৩ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি। এসব বনে তেলশুর, চিকরাশি, বৈলা...

পার্থেনিয়াম ক্ষতিকর গাছ

  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র শিক্ষক ও গবেষক প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৯ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র পার্থেনিয়াম এক ধরনের আগাছা। এর উচ্চতা দুই থেকে তিন ফুট। এর আয়ুষ্কাল তিন থেকে চার মাস। এর পাতা চিকন। সবুজ রঙের। ফুল ছোট ছোট সাদা রঙের। এর অসংখ্য শাখা থাকে। ত্রিভুজের মতো ছড়ানো। এটি ১-১.৫ মিটার লম্বা হয়। গাছটি তিনবার ফুল ও বীজ দেয়। এই ফুল গোলাকার ও পিচ্ছিল। এটি অ্যাস্টারিসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একধরনের বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। দেখতে হাইব্রিড ধানগাছের মতো। এর পাতা গাজরের পাতার মতো। অঞ্চলভেদে এর বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন কংগ্রেস ঘাস, গাজর ঘাস, চেতক চাঁদনী প্রভৃতি।  এটি মূলত উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকো ও ক্যারাবিয়ান অঞ্চলে দেখা যায়। এটি এখন ২০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে। বাংলাদেশে এটি নাকফুল নামেও পরিচিত। এটি আলো ও তাপের প্রতি অসংবেদনশীল। তবে খরা সহনশীল।  সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের ৩৫টি জেলায় এর বিস্তার ঘটেছে বলে সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় উঠে এসেছে। এটি বেগুন, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের পরাগায়ন কমিয়ে দেয়। ধান, ছোলা, সরিষা, গমসহ বিভিন্ন ফসলের অঙ্কুরোদগমে ও বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে। এটি খা...