সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জলবায়ু পরিবর্তন : ঝুঁকি বাড়ছে শিশুদের

 




জলবায়ু পরিবর্তন

ঝুঁকি বাড়ছে শিশুদের

ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে গড়ে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহ এত বেড়েছে যে, কয়েকবার হিট অ্যালার্ট জারি করতে হয়েছে। বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ছাড়াও বৈশ্বিকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ার কারণে তাপপ্রবাহের ঘটনা বেড়েই চলেছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল আইপিসিসির মতে, বাংলাদেশের তাপমাত্রা ২০৩০ সাল পর্যন্ত ০.৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ০.৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। ২০৫০ সালে এটি ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাদের মতে, প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অতিবৃষ্টি বাড়বে ৭ শতাংশ। প্রতি দশকে একবার প্রচণ্ড খরা হবে। এতে অধিকাংশ জমি শুকিয়ে যাবে। এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে তাপপ্রবাহ বাড়বে ৯.৪ গুণ। এরই মধ্যে তাপপ্রবাহের ঘটনা বেড়েছে ২.৮ গুণ।

 গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

এসব কারণে আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে ৮.৪ মিলিমিটার। বাংলাদেশে বর্ষার আগে আগে বৃষ্টিপাত কমেছে আর বর্ষার পর পর বৃষ্টিপাত বেড়েছে। বর্ষার আগে আগে বলতে মার্চ থেকে মে এবং বর্ষার পর পর বলতে জুন থেকে নভেম্বর। এটি আবহাওয়ার ধরন পাল্টে দিচ্ছে। এর ফলে শীতকালে শুষ্কতা আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং বর্ষাকালে আর্দ্রতা আরও বেশি বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) বলেছে, বাংলাদেশ শীতকালে আরও বেশি শুষ্ক এবং বর্ষাকাল আরও বেশি আর্দ্র হচ্ছে। তাদের মতে, ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সালে প্রতি বছর গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ০.০০৬৭ ডিগ্রি।

১৯৯১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বেড়েছে গড়ে ০.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেড়েছে ১.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেড়েছে ০.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গড়ে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ গুণ। বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা গত ৩ দশকের চেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ৭ ভাগ বাড়ে অতিবৃষ্টির হার। সাইক্লোনও বাড়ে। এতে দশকে একবার খরায় পড়বে। প্রতি দশকে জমি উর্বরতা হারাবে ৪ বার। সম্প্রতি ঢাকাসহ ৪৫টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এটি নিছক তাপপ্রবাহ নয়। তীব্র তাপপ্রবাহ। হিট অ্যালার্ট জারি করতে হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করতে হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর ওপরও প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় এ ধরনের নীতিমালা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। ডাক্তারদের এই নীতিমালা সামনে রেখে প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে। এটি আরও ফলপ্রসূ হবে যদি এই নীতিমালাটি গণমাধ্যমে ভালোভাবে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়


ক্লিন এয়ার ফান্ডের একটি তথ্যমতে, স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার কোয়ালিটি ফান্ডিং ২০২৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বায়ুর গুণগত মান উন্নয়নের তহবিলপ্রাপ্তিতে তৃতীয় ছিল বাংলাদেশ। এতে আরও বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বায়ুর মান উন্নয়নে বাংলাদেশ ২.৪ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। আরও একটি তথ্য অনুযায়ী শীতকালে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি এবং অস্বাস্থ্যকর হলেও বর্ষাকালে দূষণ একটু কম থাকে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি কারণ হলোÑ ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজে সৃষ্ট ধোঁয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। এসব বায়ুদূষণের কারণে মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার ও অন্যান্য রোগ, শ্বাসযন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ হতে পারে। ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর দেশের সবচেয়ে দূষিত জেলা। এখানকার মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে ৮.৩ বছর। 

সম্প্রতি আমাদের বন ও পরিবেশমন্ত্রী এক আলোচনায় জানান, বাংলাদেশ ০.৫ শতাংশের কম কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর একটি হলেও এটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই শতাব্দীর শেষ দিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ১৭ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধির ফলে ৪০ মিলিয়ন মানুষ ঘরহারা হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবির মতে, ২১০০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে না পারলে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে। ঢাকা কার্বন নিঃসরণ ২০৫০ সাল নাগাদ ৭০ ভাগ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন বাড়ানো, সবুজায়ন প্রকল্প, প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন প্রভৃতির ব্যবস্থা করবে। 

২০২০ সালে তাপপ্রবাহে সৃষ্ট ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে দেশের ২৬ লাখ শিশু। এটি দেশের মোট শিশুর ৫ ভাগ। সাম্প্রতিক এক তথ্য মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের মোট শিশুর ৯৯ ভাগ তাপপ্রবাহে সৃষ্ট ঝুঁকির মুখে পড়বে। অর্থাৎ ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশু প্রচণ্ড তাপদাহের মুখোমুখি হবে। ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অপরিণত শিশু জন্মের ঝুঁকি বাড়ে ৫ ভাগ। এটি ১৬ ভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাপমাত্রা যত বাড়বে, অপরিণত শিশুর জন্মহার তত বাড়বে। এমনিতেই বাংলাদেশে অপরিণত শিশু জন্মের হার বেশি। তাপপ্রবাহ এভাবে তীব্র আকার ধারণ করলে এটি আরও বাড়তে থাকবে। দিন দিন তাপপ্রবাহের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় তাপপ্রবাহে বেড়ে গেলে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়, লক্ষণ কী কী ও এর প্রতিকার কীÑ এসব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়: তার প্রতিকার এবং কোনো অবস্থায় দ্রুত ক্লিনিকে নেওয়া প্রয়োজন, এ নিয়ে সচেতনতা এখন খুবই জরুরি। এজন্য দরকার রেডিও, টিভি, পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রচারণা। গরমজনিত লক্ষণ দেখা দিলে আমাদের কী করা উচিত, কী কী খাবার গ্রহণ করা উচিত; এসব নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফের সহায়তায় সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করে প্রকাশ করেছে। 

এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বেশি শিশুদের। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও এর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর ওপরও প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় এ ধরনের নীতিমালা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। ডাক্তারদের এই নীতিমালা সামনে রেখে প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে। এটি আরও ফলপ্রসূ হবে যদি এই নীতিমালাটি গণমাধ্যমে ভালোভাবে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জনগণকে নিয়ে এগিয়ে এলে তাপপ্রবাহও আমরা সহজেই মোকাবিলা করতে পারব।

জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি ড. বিভূতিভূষণ মিত্র


https://protidinerbangladesh.com/opinion/107395/%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫ ১৬:১২ পিএম ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থিত। দ্বীপটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানে রয়েছে ১ হাজারের মতো ঘর। ধারণা করা হয়, ৩০০ বছর আগে থেকে এখানে মানুষ বসবাস করছে। বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের পেশা মাছ ধরা। এরা কোরাল সংগ্রহও করে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শামুক, কাঁকড়া, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী বসবাস করে। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ২৩৪ প্রজাতির মাছ, ৬৬ প্রজাতির কোরাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক জাতীয় প্রাণী, ৭ প্রজাতির কাঁকড়া, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির শৈবাল রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের তুলনায় এটি নানান কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এজন্য এর আলাদা বৈজ্ঞানিক মূল্যও অনেক বেশি। ২০২২ সালে সরকার এজন্য একে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। ২০...

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১৭ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র বাংলাদেশে বসবাসরত হাতির নাম এশিয়ান এলিফ্যান্ট। এ হাতি খুব কম দেশেই দেখা যায়। বিশ্বের ১৩ দেশে এর বিচরণ। আইইউসিএনের মতে বাংলাদেশে তিন ধরনের হাতি রয়েছে। এগুলো হলো তাদের নিজস্ব আবাসস্থলে বসবাসরত হাতি, পরিব্রাজনকারী হাতি ও পোষ মানা হাতি। বন্য প্রাণীবিদদের মতে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এসব হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। একটি তথ্যমতে বাংলাদেশে আবাসস্থলে বসবাসরত হাতির সংখ্যা ২৬৮, পরিব্রাজনকারী হাতি ৯৩ আর পোষ মানা হাতি ৯৬টি। ২০১৯ সালের একটি তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা ছিল সে সময় ২৬৩টি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপমতে বাংলাদেশে বর্তমান হাতির সংখ্যা ২২৮ থেকে ৩২৭। মূলত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে হাতি দেখা যায় বেশি। মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বটা বেশি দেখা যায় সেখানেই। তবে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায়ও হাতি দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্যমতে ২০০৪ সাল থেকে ১৭ বছরে ১১৮টি হাতি হত্যা করা হয়। আইইউসিএনের ২০২১ সালের তথ্যমতে বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে ৯০টি হাতি হত্যা করা হয়েছে। প্রতি বছর শ্রীলঙ...

কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র খুব বেশিদিন আগে নয়, ২০২৩ সাল অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের বাঘ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বাঘ পাচারে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। বাঘ নিয়ে গবেষণা করে প্যানথেরা নামের একটি সংগঠন এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনে শিকার হওয়া বাঘের বিভিন্ন অংশ বিশ্বের ১৫টি দেশে পাচার করা হয়, যদিও সরকার দাবি করে আসছে যে বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তারা যথাযথ ব্যবস্থা রেখেছে। যা হোক, এই প্রতিবেদনটি যে কাউকে চমকে দেওয়ার মতো। বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনের বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ২০১৬ সালে। শোনা যায়, অভিযান শুরুর পর অন্তত ১১৭ জন পাচারকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক শ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এসেছে। অভিযানের আগে পাচারকারীদের এই ব্যবসা ছিল রমরমা। গবেষণায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক চক্র ছাড়াও দেশের ভেতরেও বাঘের বিভিন্ন অংশের চাহিদা আছে বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও বন বিভাগ বলেছে গবেষণার এই বিষয়টি বিতর্কিত। গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের ...