সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নির্বিচারে সাপ হত্যা বন্ধ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

 


নির্বিচারে সাপ হত্যা বন্ধ


ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র


ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র: সাপ লম্বাটে,পাবিহীন, মাংসাশী সরীসৃপ প্রাণী।  কচ্ছপ বা গিরগিটি যে সরীসৃপ শ্রেণির সাপও তাই। সাপের আদি পুরুষের আবির্ভাব ঘটে ডাইনোসর যুগে। এখন এই শ্রেণিটি এন্টার্কটিকা বাদে পৃথিবীর সব অঞ্চলে পাওয়া যায়।  পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে।  আমরা যে সাপ দেখলেই মারতে উদ্যত হই, সত্যিকার অর্থে এই বন্যপ্রাণীটি কোন ক্ষতি করে না। 

সাধারণত অধিকাংশ বিষাক্ত সাপ উজ্জ্বল বর্ণের হয়। এদের স্বতন্ত্র মাথা থাকে। দেখতে ত্রিকোণাকার। পার্শ্বীয় অংশ প্রশস্ত। বিষহীন সাপ তেমন উজ্জ্বল হয় না। সাধারণত এদের মাথা লম্বাটে ও সংকীর্ণ হয়। বিষহীন সাপের বিষদাঁত থাকে না সাধারণত।  তবে কিছু বিষহীন সাপের থাকে। বিষধর সাপের চোখের মণি দেখতে ডিম্বাকার আর বিষহীন সাপের চোখের মণি গোলাকার হয়। বিষধর সাপের মাথা তিন কোণা অর্থাৎ ত্রিভুজাকার। 

একটি তথ্য মতে বাংলাদেশে ১০০ প্রজাতির মত সাপ রয়েছে। এইসব সাপের মধ্যে ৩৭ প্রজাতির সাপ বিষাক্ত। এসবের মধ্যে ১৬ প্রজাতির সাপ সমুদ্রে বাস করে, তিন প্রজাতির কোবরা , ৫ প্রজাতির কেউটে, ২ প্রজাতির কোরালসাপ, ৬ প্রজাতির সবুজ বোড়া, এক প্রজাতির চন্দ্রবোড়া । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে ৫৪ লাখ মানুষ সর্প দংশনের শিকার হয়। এর মধ্যে ১ লাখ মানুষ মারা যায়। প্রায় ৪ লাখ মানুষ এর কামড়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে। সংস্থাটির মতে প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সর্পদংশনের শিকার হন এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ মারা যান। ভারতে ৩০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে যার মধ্যে ৬০ প্রজাতির সাপ বিষাক্ত। সেখানে প্রতিবছর ৬৪ হাজার মারা যায় সর্পদংশনে। এই সংখ্যা বিশ্বের সর্প দংশনে মৃত্যুর ৮০ ভাগেরও বেশি। তবে অনেক দেশে বিষধর সাপ থাকলেও মৃত্যহার খুবই কম। যেমন অস্ট্রেলিয়াতে ১৭২ প্রজাতির সাপ রয়েছে তার মধ্যে ১০০ প্রজাতি বিষাক্ত। এ সত্ত্বেও প্রতি বছর এখানে মাত্র ৩ হাজার সর্পদংশনের ঘটনা ঘটে। এখানে বছরে সর্পদংশনে মৃত্যুর হার মাত্র ২ %।

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও খাদ্য জালে সাপের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শিকার প্রজাতি না থাকলে অন্যান্য প্রজাতি অনিয়ন্ত্রিত হারে বেড়ে যেত। আবার যারা সাপ খায় তাদের খাদ্য খুঁজতে হত। 

সম্প্রতি চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার নামের  একটি সাপের বিস্তারকে ঘিরে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জায়গায়  নির্বিচারে যে কোন সাপ হত্যা করা হচ্ছে।  বাংলাদেশ বন বিভাগ এ নিয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছে     তাতে বলা আছে - শঙ্খচূড়, খইয়া গোখুরা, কালাচ প্রভৃতি সাপ চন্দ্রবোড়াসহ অন্যান্য সাপ খেয়ে থাকে। এইভাবে যে কোন সাপ মারা হলে চন্দ্রবোড়ার বিস্তার আরও ঘটবে। 



https://www.amadershomoy.com/opinion/article/115515?fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAAR1VDRAzyy7bgN4-THJTjjTZ9te2ryL3Xf0tvX9VG5J7H3fujbBcYsi3HOg_aem_6UWh-fiiHF3di3eDbPkGpA


সত্যিকার অর্থে সাপ মূলত মানুষকে এড়িয়ে চলে। মানুষকে সাপ তখনই কামড়ায় যখন সে ভীত, আতঙ্কগ্রস্ত ও আক্রমণের শিকার হয়। অধিকাংশ সাপ মানুষের কোন ক্ষতি করে না। কিছু সাপ আক্রমণের শিকার হলে তাদের লেজ নাড়িয়ে ভয় দেখায়। এটা দেখে অনেক মানুষ ভীত হয়ে সাপ মেরে ফেলে। বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া সাপ নিয়ে যা ঘটছে তা সত্যিদঃখজনক। এই মুহূর্তে  নির্বিচারে সাপ হত্যা বন্ধ করতে হবে। কোনটি বিষধর কোনটি বিষধর নয়, সে সম্পর্কে জানতে হবে। এজন্যে সারাদেশে সচেতনতা মূলক কাজ বাড়াতে হবে।  এক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি - বেসরকারি সংস্থার এগিয়ে আসা জরুরি। 
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫ ১৬:১২ পিএম ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থিত। দ্বীপটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানে রয়েছে ১ হাজারের মতো ঘর। ধারণা করা হয়, ৩০০ বছর আগে থেকে এখানে মানুষ বসবাস করছে। বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের পেশা মাছ ধরা। এরা কোরাল সংগ্রহও করে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শামুক, কাঁকড়া, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী বসবাস করে। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ২৩৪ প্রজাতির মাছ, ৬৬ প্রজাতির কোরাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক জাতীয় প্রাণী, ৭ প্রজাতির কাঁকড়া, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির শৈবাল রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের তুলনায় এটি নানান কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এজন্য এর আলাদা বৈজ্ঞানিক মূল্যও অনেক বেশি। ২০২২ সালে সরকার এজন্য একে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। ২০...

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১৭ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র বাংলাদেশে বসবাসরত হাতির নাম এশিয়ান এলিফ্যান্ট। এ হাতি খুব কম দেশেই দেখা যায়। বিশ্বের ১৩ দেশে এর বিচরণ। আইইউসিএনের মতে বাংলাদেশে তিন ধরনের হাতি রয়েছে। এগুলো হলো তাদের নিজস্ব আবাসস্থলে বসবাসরত হাতি, পরিব্রাজনকারী হাতি ও পোষ মানা হাতি। বন্য প্রাণীবিদদের মতে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এসব হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। একটি তথ্যমতে বাংলাদেশে আবাসস্থলে বসবাসরত হাতির সংখ্যা ২৬৮, পরিব্রাজনকারী হাতি ৯৩ আর পোষ মানা হাতি ৯৬টি। ২০১৯ সালের একটি তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা ছিল সে সময় ২৬৩টি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপমতে বাংলাদেশে বর্তমান হাতির সংখ্যা ২২৮ থেকে ৩২৭। মূলত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে হাতি দেখা যায় বেশি। মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বটা বেশি দেখা যায় সেখানেই। তবে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায়ও হাতি দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্যমতে ২০০৪ সাল থেকে ১৭ বছরে ১১৮টি হাতি হত্যা করা হয়। আইইউসিএনের ২০২১ সালের তথ্যমতে বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে ৯০টি হাতি হত্যা করা হয়েছে। প্রতি বছর শ্রীলঙ...

কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র খুব বেশিদিন আগে নয়, ২০২৩ সাল অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের বাঘ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বাঘ পাচারে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। বাঘ নিয়ে গবেষণা করে প্যানথেরা নামের একটি সংগঠন এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনে শিকার হওয়া বাঘের বিভিন্ন অংশ বিশ্বের ১৫টি দেশে পাচার করা হয়, যদিও সরকার দাবি করে আসছে যে বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তারা যথাযথ ব্যবস্থা রেখেছে। যা হোক, এই প্রতিবেদনটি যে কাউকে চমকে দেওয়ার মতো। বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনের বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ২০১৬ সালে। শোনা যায়, অভিযান শুরুর পর অন্তত ১১৭ জন পাচারকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক শ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এসেছে। অভিযানের আগে পাচারকারীদের এই ব্যবসা ছিল রমরমা। গবেষণায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক চক্র ছাড়াও দেশের ভেতরেও বাঘের বিভিন্ন অংশের চাহিদা আছে বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও বন বিভাগ বলেছে গবেষণার এই বিষয়টি বিতর্কিত। গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের ...