সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইটভাটায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

 ইটভাটায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি


জনস্বাস্থ্য

ইটভাটায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

আইন অনুসারে ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত, সেখানকার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করতে পারবে না এবং ইটভাটা ছাড়া কোথাও ইট প্রস্তুত করা যাবে না। আইনে মাটি ব্যবহার সংক্রান্ত কথাও বলা আছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি ইট তৈরি করার জন্য কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে ইট তৈরি করতে পারবে না। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে মজা পুকুর, খাল-বিল, দিঘি, নদনদী, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কেটে তা ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এই আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কোনো জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। ৮ ধারায় বলা হয়েছে, ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক; আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সীমানার ভেতরে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।     

এসব বিধি লঙ্ঘন করলে শাস্তিরও বিধান রাখা হয়েছে। ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করলে, পরিচালনা বা চালু রাখলে ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এ ছাড়া ১৫ ধারামতে, ইট তৈরি করার জন্য কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করলে বা জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া ইট তৈরির জন্য মজা পুকুর, খাল-বিল, দিঘি, নদী, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটলে অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এ ছাড়া ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।     

২০২৩ সালে এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা ৭৪ মাইক্রোগ্রাম। ভারতে ৫৮.৭ মাইক্রোগ্রাম ও চীনে ৩০.২ মাইক্রোগ্রাম একই সময়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর কমপক্ষে ৬.৮ বছর আয়ু কমে যাচ্ছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের তথ্যমতে, বিশ্বে দূষণের তালিকায় শীর্ষে এখন ঢাকা। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর এখন ২৮০; সংস্থা অনুযায়ী। পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ২৩৪, ভারতের দিল্লির ২২৪ এবং কলকাতার ১৯০।
ক্লিন এয়ার ফান্ডের একটি তথ্যমতে, স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার কোয়ালিটি ফান্ডিং ২০২৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বায়ুর গুণগত মান উন্নয়নের তহবিলপ্রাপ্তিতে তৃতীয় ছিল বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি কারণ হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজে সৃষ্ট ধোঁয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি তথ্যমতে, প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগ, শ্বাসযন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ হতে পারে এসব বায়ুদূষণের কারণে। এমনকি ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুরও দেশের সবচেয়ে দূষিত জেলা। এখানকার মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে ৮.৩ বছর। 

সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবেশ উপদেষ্টা নতুন করে ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বলে জানান। এ ছাড়া ৩ হাজার ৪৯১টি ইটভাটার ছাড়পত্র নেই বলে জানান। এসব ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান। পার্বত্য এলাকায় যেসব ইটভাটা রয়েছে, সেসবও স্থানান্তর করা হবে। এসব ভালো উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের আগ্রহও ভালো ছিল। তারা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেন। 
ইটের বিকল্প হিসেবে অপোড়ানো ব্লক ব্যবহারের ব্যাপারে সরকার এগিয়ে আসতে পারে। এই ব্লক ব্যবহার একটি ভালো পরিকল্পনা। এ নিয়ে সরকার আরও ভালো উদ্যোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটা বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। 

ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র: শিক্ষক ও গবেষক


https://samakal.com/opinion/article/260339/%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%AC-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫ ১৬:১২ পিএম ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থিত। দ্বীপটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানে রয়েছে ১ হাজারের মতো ঘর। ধারণা করা হয়, ৩০০ বছর আগে থেকে এখানে মানুষ বসবাস করছে। বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের পেশা মাছ ধরা। এরা কোরাল সংগ্রহও করে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শামুক, কাঁকড়া, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী বসবাস করে। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ২৩৪ প্রজাতির মাছ, ৬৬ প্রজাতির কোরাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক জাতীয় প্রাণী, ৭ প্রজাতির কাঁকড়া, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির শৈবাল রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের তুলনায় এটি নানান কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এজন্য এর আলাদা বৈজ্ঞানিক মূল্যও অনেক বেশি। ২০২২ সালে সরকার এজন্য একে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। ২০...

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১৭ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র বাংলাদেশে বসবাসরত হাতির নাম এশিয়ান এলিফ্যান্ট। এ হাতি খুব কম দেশেই দেখা যায়। বিশ্বের ১৩ দেশে এর বিচরণ। আইইউসিএনের মতে বাংলাদেশে তিন ধরনের হাতি রয়েছে। এগুলো হলো তাদের নিজস্ব আবাসস্থলে বসবাসরত হাতি, পরিব্রাজনকারী হাতি ও পোষ মানা হাতি। বন্য প্রাণীবিদদের মতে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এসব হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। একটি তথ্যমতে বাংলাদেশে আবাসস্থলে বসবাসরত হাতির সংখ্যা ২৬৮, পরিব্রাজনকারী হাতি ৯৩ আর পোষ মানা হাতি ৯৬টি। ২০১৯ সালের একটি তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা ছিল সে সময় ২৬৩টি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপমতে বাংলাদেশে বর্তমান হাতির সংখ্যা ২২৮ থেকে ৩২৭। মূলত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে হাতি দেখা যায় বেশি। মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বটা বেশি দেখা যায় সেখানেই। তবে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায়ও হাতি দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্যমতে ২০০৪ সাল থেকে ১৭ বছরে ১১৮টি হাতি হত্যা করা হয়। আইইউসিএনের ২০২১ সালের তথ্যমতে বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে ৯০টি হাতি হত্যা করা হয়েছে। প্রতি বছর শ্রীলঙ...

কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র খুব বেশিদিন আগে নয়, ২০২৩ সাল অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের বাঘ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বাঘ পাচারে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। বাঘ নিয়ে গবেষণা করে প্যানথেরা নামের একটি সংগঠন এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনে শিকার হওয়া বাঘের বিভিন্ন অংশ বিশ্বের ১৫টি দেশে পাচার করা হয়, যদিও সরকার দাবি করে আসছে যে বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তারা যথাযথ ব্যবস্থা রেখেছে। যা হোক, এই প্রতিবেদনটি যে কাউকে চমকে দেওয়ার মতো। বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনের বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ২০১৬ সালে। শোনা যায়, অভিযান শুরুর পর অন্তত ১১৭ জন পাচারকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক শ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এসেছে। অভিযানের আগে পাচারকারীদের এই ব্যবসা ছিল রমরমা। গবেষণায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক চক্র ছাড়াও দেশের ভেতরেও বাঘের বিভিন্ন অংশের চাহিদা আছে বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও বন বিভাগ বলেছে গবেষণার এই বিষয়টি বিতর্কিত। গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের ...