সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2024 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায়বিচার ও সমতার দাবি ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  কপ-২৯ জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায়বিচার ও সমতার দাবি ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৮ :৫১ এএম  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলন অর্থাৎ কনফারেন্স অব পার্টিজের ২৯তম আসর বসেছে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে। এই সম্মেলন ১১ নভেম্বর শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২২ নভেম্বর। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো এ সম্মেলনে অংশ নেয়। সদস্য সংখ্যা ১৯৮। ১৯৭ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিলে মোট ১৯৮। এ সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়াও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি, আদিবাসী প্রতিনিধি, গবেষণা প্রতিষ্ঠানও অংশ নিতে পারে। সারা বিশ্বের জলবায়ু, প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা করা হয়। পরিবেশ ও জলবায়ুসংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি বছর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ, পশ্চিম ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান এলাকাগুলো থেকে কপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। পর্যায়ক্রমে সেসব দেশেই কপ হয়ে থাকে। কোনো কারণে কোনো দেশ অপারগ হলে তা জার্মানির বনে অনুষ্ঠিত হবে। কপের শুরু ১৯৯২ সালে রিওডি জেনেরিওতে...

পলিথিনের পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা থাকা দরকার ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

পলিথিনের পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা থাকা দরকার  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র পলিথিনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেক। চোখ জ্বালা করা, শ্বাসকষ্ট, লিভারের সমস্যা, ক্যান্সার, চর্মরোগ থেকে শুরু করে অনেক মারাত্মক রোগের জন্য পলিথিন দায়ী। আমরা বাজারে গেলে পলিথিনে করেই সব কিছু নিয়ে আসি। এমনকি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যও।   অথচ পলিথিনে মোড়ানো এসব খাবারই খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। মাছ-মাংস পলিথিন ছাড়া আমরা রাখি না। কিন্তু পলিথিনে মাছ-মাংস প্যাকিং করলে অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। প্লাস্টিকের বর্জ্য মাইক্রো ও ন্যানো কণা রূপে মানুষের শরীরে ঢুকে হরমোনজনিত নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপাদন ব্যাহত করছে। ক্যান্সারসহ ত্বকের নানা রকম রোগ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ কলের পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে ২১ গ্রাম এবং বছরে ২৫০ গ্রাম এই প্লাস্টিক মানুষের শরীরে ঢুকে গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফথেলেটস, বিসফেনোন, অর্গানোটিনস, পার ও পরি ফ্লোরোঅ্যালকাইল, বিসফেনল এ প্রভৃতি রাসায়নিক উ...

ইটভাটায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি

 ইটভাটায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি জনস্বাস্থ্য ইটভাটায় প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আইন অনুসারে ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত, সেখানকার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করতে পারবে না এবং ইটভাটা ছাড়া কোথাও ইট প্রস্তুত করা যাবে না। আইনে মাটি ব্যবহার সংক্রান্ত কথাও বলা আছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি ইট তৈরি করার জন্য কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে ইট তৈরি করতে পারবে না। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে মজা পুকুর, খাল-বিল, দিঘি, নদনদী, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কেটে তা ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এই আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কোনো জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। ৮ ধারায় বলা হয়েছে, ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক; আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সীমানার ভেতরে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।      এসব বিধি লঙ্ঘন ...

কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  কতটা উন্নত সুন্দরবনের পরিবেশ  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র খুব বেশিদিন আগে নয়, ২০২৩ সাল অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের বাঘ নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বাঘ পাচারে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ দেশ। বাঘ নিয়ে গবেষণা করে প্যানথেরা নামের একটি সংগঠন এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনে শিকার হওয়া বাঘের বিভিন্ন অংশ বিশ্বের ১৫টি দেশে পাচার করা হয়, যদিও সরকার দাবি করে আসছে যে বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তারা যথাযথ ব্যবস্থা রেখেছে। যা হোক, এই প্রতিবেদনটি যে কাউকে চমকে দেওয়ার মতো। বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনের বাঘ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ২০১৬ সালে। শোনা যায়, অভিযান শুরুর পর অন্তত ১১৭ জন পাচারকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক শ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এসেছে। অভিযানের আগে পাচারকারীদের এই ব্যবসা ছিল রমরমা। গবেষণায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক চক্র ছাড়াও দেশের ভেতরেও বাঘের বিভিন্ন অংশের চাহিদা আছে বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও বন বিভাগ বলেছে গবেষণার এই বিষয়টি বিতর্কিত। গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের ...

সিসাদূষণ মোকাবিলা ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

https://www.ajkerpatrika.com/op-ed/column/ajpk5xshe0nov   সিসা একটি নরম ধাতু। এটি ঈষৎ নীলাভ ধূসর বর্ণের। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮২। ধাতুটি এতটাই নরম যে একটি ছুরির সাহায্যে একে কাটা যায়। সিসা কিন্তু মারাত্মক ক্ষতিকর বিষ। এই বিষের ভেতরেই বাস করছে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ। বাংলাদেশের বাতাসে যেমন সিসার উপস্থিতি দেখা গেছে, তেমনি মাটিতে-পানিতেও পাওয়া গেছে। এমনকি খাবারেও সিসার উপস্থিতি দেখা গেছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) একটি গবেষণায় দেখা গেছে খোলা, প্যাকেটজাত দুধ এবং দইয়ে সিসা, ক্রোমিয়ামসহ অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতি। সিসা নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও ধূমপান, পানীয় জল, নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া পেট্রল, পেইন্ট, ব্যাটারি, খেলনা ইত্যাদির দ্বারাও সিসা ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে বছরে দুই লাখ টন সিসা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনচক্রকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। মাটিতে মিশছে। তারপর উদ্ভিদের শরীরে যাচ্ছে। এরপর প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করছে। এভাবে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে মানুষের শরীরেও। ...

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি

  ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি অন্যদৃষ্টি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি বিভূতি ভূষণ মিত্র  প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪ | ০০:০৬ ই-বর্জ্য বলতে ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীকে বোঝায়, যার অর্থনৈতিক উপযোগিতা নেই। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য বা যন্ত্রপাতিগুলোকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যেমন– ঘরোয়া যন্ত্রপাতি; বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্প, কাপড় ধোয়ার যন্ত্র, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, হিটার, ক্লিনার, টোস্টার, ব্যাটারি, টেলিভিশন, রেডিও, ডিভিডি প্লেয়ার, ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা ইত্যাদি। ধোঁয়া নির্ণয়কারী যন্ত্র, তাপ নিয়ন্ত্রক, থার্মোস্ট্যাট, ধোঁয়া নির্বাপক ইত্যাদি নিয়ন্ত্রক যন্ত্রপাতি। মাইক্রোস্কোপ, এমআরআই যন্ত্র, এন্ডোস্কোপি যন্ত্র, এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসাউন্ড প্রভৃতি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং ল্যাপটপ, স্ক্যানার, ক্যালকুলেটর, নোটবুক, প্রিন্টার, মনিটর, ফ্যাক্স প্রভৃতিকে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ধরা হয়।    ই-বর্জ্যের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে। এক পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে বছরে ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে...

Sustainable development and ethnobiological practices in Hajong and Chakma community of Bangladesh

Sustainable development and ethnobiological practices in Hajong and Chakma community of Bangladesh Bibhuti Bhushan Mitra Introduction According to United Nations World Commission of Environment and Development, sustainable development means meeting the needs of the present without compromising the ability of future generations to meet their own needs. Ethnobiological practices are totems and taboos, traditional medicines, strong beliefs such as myth, folklores etc .Hajong community lives in Mymensingh, Sherpur districts and chakma in Chittagong district. One community lives in plain land and another in hill area. The paper presents here ethnobiological practices of two communities which are sustainably used. Bangladesh covers an area of 1, 47,570 sq km with a population of 150 million. The total population of indigenous peoples in Bangladesh is approximately 3 million, out of which, 0.85 million live in Chittagong which covers an area of 13,295 sq km and othe...

নির্বিচারে সাপ হত্যা বন্ধ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  নির্বিচারে সাপ হত্যা বন্ধ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র : সাপ লম্বাটে,পাবিহীন, মাংসাশী সরীসৃপ প্রাণী।  কচ্ছপ বা গিরগিটি যে সরীসৃপ শ্রেণির সাপও তাই। সাপের আদি পুরুষের আবির্ভাব ঘটে ডাইনোসর যুগে। এখন এই শ্রেণিটি এন্টার্কটিকা বাদে পৃথিবীর সব অঞ্চলে পাওয়া যায়।  পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে।  আমরা যে সাপ দেখলেই মারতে উদ্যত হই, সত্যিকার অর্থে এই বন্যপ্রাণীটি কোন ক্ষতি করে না।  সাধারণত অধিকাংশ বিষাক্ত সাপ উজ্জ্বল বর্ণের হয়। এদের স্বতন্ত্র মাথা থাকে। দেখতে ত্রিকোণাকার। পার্শ্বীয় অংশ প্রশস্ত। বিষহীন সাপ তেমন উজ্জ্বল হয় না। সাধারণত এদের মাথা লম্বাটে ও সংকীর্ণ হয়। বিষহীন সাপের বিষদাঁত থাকে না সাধারণত।  তবে কিছু বিষহীন সাপের থাকে। বিষধর সাপের চোখের মণি দেখতে ডিম্বাকার আর বিষহীন সাপের চোখের মণি গোলাকার হয়। বিষধর সাপের মাথা তিন কোণা অর্থাৎ ত্রিভুজাকার।  একটি তথ্য মতে বাংলাদেশে ১০০ প্রজাতির মত সাপ রয়েছে। এইসব সাপের মধ্যে ৩৭ প্রজাতির সাপ বিষাক্ত। এসবের মধ্যে ১৬ প্রজাতির সাপ সমুদ্রে বাস করে, তিন প্রজাতির কোবরা , ৫ প্রজাতির কেউটে, ২ প্রজাত...

রাসেলস ভাইপার ঠেকাতে হবে বংশ বিস্তার ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  রাসেলস ভাইপার ঠেকাতে হবে বংশ বিস্তার ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র রাসেলস ভাইপার ঠেকাতে হবে বংশ বিস্তার ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৫:০৬ পিএম  ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিষধর সাপের একটি চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার। বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে এর বিস্তৃতি নজরে পড়ছে। এটি ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এর কামড়ে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। এর কামড়ে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের ১৭ জেলায় ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চন্দ্রবোড়ার মাথা চ্যাপ্টা, ত্রিভুজাকার। নাকের ছিদ্র ও চোখ বড়। দেহ মোটাসোটা। পিঠের গায়ের রঙ হলুদ, গাঢ় বাদামি ও কালো বলয়যুক্ত বা অর্ধচন্দ্রের মতো, তিন সারিতে বিভক্ত। পেটের দিকটা সাদা, হলুদ, গোলাপি রঙের। দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১.২৪ মিমি। এরা সাধারণত ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। বেশিরভাগ সময় খোলা এলাকা, ঝোপঝাড়, বাগান বা কৃষিজমিতে পাওয়া যায়। বাসাবাড়িতে না গেলেও ইঁদুরের সন্ধানে যেতে পারে। কচুরিপানার ওপর শুয়ে রোদ পোহায় বলে ভেসে সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে। চন্দ্রবোড়া নিশাচর হলেও ঠান্ডা আবহাওয়ায় দিনের বেলায়ও সক্রিয় থাকে। এটি সেকেন্ডের ১৬ ভাগের এক ভাগ সময়ে কামড় দিতে ...

সুন্দরবন অরক্ষিত বন্য প্রাণী ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

  সুন্দরবন অরক্ষিত বন্য প্রাণী ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১০ :১৪ এএম  ড. বিভূতিভূষণ মিত্র সুন্দরবনের পরিবেশ আগের মতোই থাকবে তো? বেঁচে থাকবে তো বাংলাদেশের গৌরবদীপ্ত-উজ্জ্বল-ক্ষিপ্র-তেজি-রাজসিক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার? অনেক বিজ্ঞানী অবশ্য বলছেন, আগামী ৫০ বছরে হয়তো বা এ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কেননা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার ওপর নির্ভর করে বাঘের প্রজনন। সে প্রজননের পরিবেশ টিকিয়ে রাখাই এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা একদিকে সুন্দরবনের নিকটবর্তী শিল্পকারখানা গঠন করা হচ্ছে, অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে; অন্যদিকে খালে বিষ প্রয়োগ করে ধরা হচ্ছে মাছ। এতে বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানছে। সুন্দরবেনর আয়তন মোট ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। এর ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে আর ৩৮ শতাংশ ভারতে পড়েছে। এটি পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার কিছু এলাকা এ বনের বাংলাদেশ অংশ। সুন্দরবন ১৯৯২ সালে রামসার এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়। পরে ১৯৯৭ সালে একে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো। সুন্দরবন ব...

জীবনের প্রয়োজনেই বনের সুরক্ষা জরুরি ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

  পরিবেশ-প্রতিবেশ জীবনের প্রয়োজনেই বনের সুরক্ষা জরুরি ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ০৯:০১ এএম  ড. বিভূতিভূষণ মিত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সভ্যতার প্রতি’ কবিতায় লিখেছিলেন, দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,/লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর/হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,/দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি’। বনের ওপর মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই নানাভাবে নির্ভরশীল। ঘর বানানো, জ্বালানি প্রভৃতি কাজে মানুষ আদি থেকেই বন ব্যবহার করে আসছে। প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দ্রাবিড় সভ্যতার বিকাশের সময় বন ব্যবহার সম্পর্কে জানা গেছে। সে সময় তারা গাছ কেটে ঘর বানাত। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলত। বেদ, পুরাণ, রামায়ণ ও মহাভারতেও বন ও বনায়ন সম্পর্কে জানা যায়। এসব গ্রন্থে শাল, বেল, কিংশুক প্রভৃতির কথা উল্লেখ আছে। সম্রাট অশোক সম্পর্কে জানা যায়, তিনি বন ও বন্য প্রাণী ভালোবাসতেন ও সেসবের খুব যত্ন নিতেন এবং বন সংরক্ষণ করতেন। মুঘলদের আমলে বন সংরক্ষণের কথা তেমন পাওয়া না গেলেও তাদের বন ব্যবহার করার কথা জানা গেছে। তারা সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বনের গাছ ব্যবহার করত। পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যাপক মাত্রায় বন কেটে র...

প্লাস্টিকের পৃথিবী ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  প্লাস্টিকের পৃথিবী ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৪, ০৯:০৮ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র২০২৩ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে স্লোগান ছিল—‘সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিকদূষণ’। আমরা পণ করেছি, পণ করার পর কি পণের কথাটি মনে রেখেছি? প্লাস্টিক আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে। বিজ্ঞানী বেকল্যান্ড এটি আবিষ্কার করেন। এটি পেট্রোলিয়াম দিয়ে তৈরি একটি যৌগ। বেকল্যান্ড এটি আবিষ্কার করার সময় কি ভেবেছিলেন, এর ব্যবহার এতটাই হবে যে একদিন পুরো পৃথিবীটাই প্লাস্টিকে ঢেকে যাবে।  বিশ্বে প্রতিবছর প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয় প্রায় ৪৫ কোটি টন। প্লাস্টিক বর্জ্য ৪০০ বছর পর্যন্ত পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব রাখতে পারে। প্লাস্টিকদূষণকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। প্লাস্টিক এখন সাগরের তলদেশ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশ্বে প্রতি মিনিটে প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি হয় প্রায় ৫ লাখ। বিশ্বে বছরে ৮০ লাখ টন বর্জ্য সাগরে মিশে যায়। একটি গবেষণার তথ্যমতে, দোকানে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ২০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর বোতল হিসেবে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ...

সুন্দরবন অরক্ষিত বন্য প্রাণী

সুন্দরবন অরক্ষিত বন্য প্রাণী ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১০:১৪ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র সুন্দরবনের পরিবেশ আগের মতোই থাকবে তো? বেঁচে থাকবে তো বাংলাদেশের গৌরবদীপ্ত-উজ্জ্বল-ক্ষিপ্র-তেজি-রাজসিক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার? অনেক বিজ্ঞানী অবশ্য বলছেন, আগামী ৫০ বছরে হয়তো বা এ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কেননা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার ওপর নির্ভর করে বাঘের প্রজনন। সে প্রজননের পরিবেশ টিকিয়ে রাখাই এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা একদিকে সুন্দরবনের নিকটবর্তী শিল্পকারখানা গঠন করা হচ্ছে, অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে; অন্যদিকে খালে বিষ প্রয়োগ করে ধরা হচ্ছে মাছ। এতে বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানছে। সুন্দরবেনর আয়তন মোট ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। এর ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে আর ৩৮ শতাংশ ভারতে পড়েছে। এটি পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার কিছু এলাকা এ বনের বাংলাদেশ অংশ। সুন্দরবন ১৯৯২ সালে রামসার এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়। পরে ১৯৯৭ সালে একে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো। সুন্দরবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক ...

হাতি হত্যা কি বন্ধ করা যাবে না ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  হাতি হত্যা কি বন্ধ করা যাবে না ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশে যে হাতিটি দেখা যায় এটিকে এশিয়ান এলিফ্যান্ট বা এশীয় হাতি বলে। এই এশীয় হাতি ১৩টি দেশে দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্য মতে, ২০০৪ সাল থেকে পরবর্তী ১৭ বছরে বাংলাদেশে হাতি হত্যা করা হয়েছে ১১৮টি। আরেকটি তথ্য অনুযায়ী হাতি-মানব দ্বন্দ্বে ২৩৬ জন মানুষ মারা গেছে। আইইউসিএন-এর তথ্য অনুয়ায়ী বাংলাদেশে তিন ধরনের হাতি দেখা যায়। কিছু হাতি তাদের আবাসস্থলে বাস করে। কিছু হাতি পরিব্রাজন করে। কিছু হাতি পোষ মানা। বন্য হাতি যারা, তারা তাদের আবাসস্থলে বাস করে, তাদের সংখ্যা ২৬৮। পরিব্রাজনকারী হাতির সংখ্যা ৯৩। পোষ মানা হাতির সংখ্যা ৯৬। বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত পাঁচ শর মতো হাতি ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী এই হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৮ থেকে ৩২৭-এ। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা ২৬৩টি, যার ৫৫ ভাগই কক্সবাজার এলাকার। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছাড়াও মানব-হাতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায়।  প্রতিবছর শ্রীলঙ্কায় ২০০ হাতি হত্যা হয়। ভারতে মানুষ-হাতি সংঘর্ষে মারা পড়ে বছরে ১০০...

শুশুকের অসুখ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৪ ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের দৈনিকগুলোয় হালদা নদীতে ডলফিন মারা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে দুই প্রজাতির ডলফিন রয়েছে। একটিকে গাঙ্গেজ ডলফিন বলা হয়, আরেকটি ইরাবতী ডলফিন। গাঙ্গেজ ডলফিনকেই শিশু বা শিশুক বা শুশুক বলা হয়। এটি মূলত মিঠাপানির ডলফিন। আর ইরাবতী ডলফিন সাগর বা সাগর নিকটবর্তী নদীতে পাওয়া যায়। হালদা নদীর ডলফিনকে শুশুক বলা হয়। এটি গাঙ্গেজ ডলফিন। হালদা নদী বাংলাদেশের পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। এটি খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় পড়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১০৬ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৩৪ মিটার। নদীটি দেখতে সর্পিলাকার। হালদা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র। এই নদীতে জোয়ার-ভাটা ঘটে। মিঠাপানির মাছ এই নদীতে ডিম ছাড়ে। হালদা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখানে কার্পজাতীয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ ডিম পাড়ে। সেই ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এমন নদী নেই, যেখান থেকে মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ডলফিন পাওয়া গেছে ১৬৭টি, ২০২০ সালে ১২৭টি। গাঙ্গেয় ডলফিন পৃথি...