সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বনখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র



বনখেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে

  ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:২০


বন এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ যেখানে প্রাকৃতিকভাবে গাছপালা পশুপাখি সবাই মিলে একসাথে থাকে। বনের আয়তন বিশাল হয়ে থাকে যেখানে নানা বৃক্ষরাজি, ছোটবড়ো ঝোপঝাড় থাকে। থাকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, পাখি ও কীটপতঙ্গ। এখানকার ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্যর জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, কোথাও শুকনা, কোথাও জলাশয়ে পূর্ণ থাকে। বন নানা রকম হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এই প্রাকৃতিক বনের ব্যবহার বহু আগে থেকেই রয়েছে।

বাংলাদেশে পাহাড়ি বন, ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বন, শালবন, কৃত্রিম বন প্রভৃতি নানা রকম বন দেখা যায়। পাহাড়ি বন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলায় অবস্থিত। বৃহত্তর খুলনা জেলায় অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন। বৃহত্তর পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ভোলা জেলায় উপকূলীয় বন অবস্থিত। এছাড়া বৃহত্তর  ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাংগাইল, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় শালবন রয়েছে। পাহাড়ি বনের পরিমাণ ১৩ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি। এসব বনে তেলশুর, চিকরাশি, বৈলাম, গামার, বাঁশ, শীল কড়ই প্রভৃতি গাছ জন্মে। বন্যপ্রাণীর মধ্যে দেখা যায় বানর, শূকর, বন মুরগী, সাপ, শিয়াল, নেকড়ে, কাঠবিড়ালী প্রভৃতি। লতার মধ্যে রয়েছে কাঞ্চনলতা, আনিগোটা, কুমারিলতা, শতমূলী, গিলা প্রভৃতি। এছাড়া এখানে অনেক ছনই ঘাস পাওয়া যায়। শালবনটির একটি অংশ ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চলে। এটি ৮০ কি.মি দীর্ঘ ও ৭-২০ কি.মি চওড়া। এটি মধুপুর গড় নামে পরিচিত। আরেকটি অংশ শেরপুর জেলায়। এই অংশটি ৬০ কি.মি দীর্ঘ ও ১.৫-১০ কি.মি চওড়া। এছাড়া শালবনের কিছু অংশ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।

বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৪.০৭ ভাগ ম্যানগ্রোভ বন। এসব বনের অধিকাংশ এলাকায় জোয়ার-ভাটা হয়। ফলে এ বনের গাছপালা বেশ লবণাক্ত সহনশীল হয়ে থাকে। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, বাইন, ধুন্দুল, কেওড়া, গোলপাতা এসব বনের প্রধান বৃক্ষ। এছাড়া এখানকার উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি। শালবনের প্রধান বৃক্ষই হলো শাল। এখানকার নব্বই ভাগ এলাকায় শাল গাছ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ একটি অংশ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। রাস্তা-ঘাট, রেল লাইনের দুধার, স্কুল-কলেজের আঙিনা প্রভৃতি জায়গায় এই বনায়ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এই সমস্ত সামাজিক বনের প্রধান বৃক্ষ হলো- ইউক্যালিপটাস, কড়ই, আকাশমনি, গোড়ানিম ইত্যাদি। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা যেমন খুলনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলায় উপকূলীয় বন অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৫২০০০০ হেক্টর। প্রধানত সুন্দরী, গেওয়া, গরান, ধুন্দুল, আমুর, ডাকুর প্রভৃতি পাওয়া যায়। এখানে ঝাউ, কেরু, পনিয়াল, কাঠবাদাম, পিপুল, নিশিন্দার দেখা মিলে।

বনের ওপর মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই নানাভাবে নির্ভরশীল। ঘর বানানো, জ্বালানি প্রভৃতি কাজে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই বন ব্যবহার করে আসছে। প্রায় ২০০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে দ্রাবিড় সভ্যতার বিকাশের সময় বন ব্যবহার সম্পর্কে জানা গেছে। সে সময় তারা গাছ কেটে ঘর বানাত। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলত। বেদ, পুরাণ, রামায়ণ ও মহাভারতেও বন ও বনায়ন সম্পর্কে জানা যায়। এই সমস্ত গ্রন্থে শাল, বেল, কিংশুক প্রভৃতির কথা উল্লেখ আছে। সম্রাট অশোক সম্পর্কে জানা যায়- তিনি বন ও বন্যপ্রাণী ভালোবাসতেন ও সেসবের খুব যত্ন নিতেন এবং বন সংরক্ষণ করতেন। মোঘলদের আমলে বন সংরক্ষণের কথা তেমন পাওয়া না গেলেও তাদের বন ব্যবহার করার কথা জানা গেছে। তারা অবকাঠামোগত সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বনের গাছ ব্যবহার করত। পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যাপক মাত্রায় বন কেটে রেল লাইনসহ নানা কাজ শুরু করলেও ভারতবর্ষে প্রথম বন সংরক্ষণের কথা আসে লর্ড ডালহৌসির আমলে। পরবর্তীতে ১৮৬৪ সালের পহেলা নভেম্বর প্রথম ভারতে বন বিভাগ চালু হয়।

জাতিসংঘের মতে সারা বিশ্বে ১.৬ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বনের ওপর নির্ভর রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আজ অবধি বিশ্বের ৮০ শতাংশ বন মানুষের কারণে ধ্বংস হয়েছে। এফএও-এর তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জ্বালানি কাঠের বার্ষিক অর্থমূল্য ৪ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি। বনের ওপর মানুষ নানাভাবে নির্ভরশীল। বন অক্সিজেন তৈরি করে। আমাদের ঠাণ্ডা রাখে। কার্বন ডাই অক্সাইড সংরক্ষণ করে। বাতাস পরিষ্কার ও ভূমিক্ষয় রোধ করে। খাবারের জোগান দেয় ও কোটি কোটি মানুষকে চাকরি দেয়। বন বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। বাতাসকে নির্মল রাখে। পৃথিবীর প্রায় ৩০ কোটি লোক বাস করে বনে। এদের মধ্যে ৬ কোটি লোকই আদিবাসী। এসব মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বনের ওপর নির্ভর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগারের এক তথ্যমতে একটি গাছ বছরে ৮৫০ জন মানুষ বাঁচায় আর স্বাস্থ্য খরচ কমায় ৬৮০ কোটি ডলারের। পৃথিবীর এক কোটি মানুষ সরাসরি বনের ওপর নির্ভরশীল। বন আমাদের বিভিন্ন ধরনের ওষুধসহ মধু, মাশরুম, ফল, বাদাম ইত্যাদির জোগানদাতা। এছাড়া বনের গাছপালা শব্দ প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, যা মারাত্মক শব্দদূষণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। বলা হয়ে থাকে বাড়ির চারপাশে গাছপালা থাকলে ৫ থেকে ১০ ডেসিবেল শব্দ কমিয়ে আনতে পারে।

জীবজগতের আশি শতাংশের বসবাস বনে। প্রায় ৬০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদের আবাসস্থল এই বন। এছাড়া উভচর প্রজাতির আশি শতাংশ, পাখি প্রজাতির ৭৫ শতাংশ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রজাতির ৬৮ শতাংশের বসবাস বনে। কিন্তু ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে এসব বন। ডব্লইডব্লইএফের তথ্যমতে প্রতি বর্গ কিলোমিটার বন এক হাজার পর্যন্ত জীব প্রজাতি ধারণ করতে পারে। এফএও-এর মতে বিশ্বব্যাপী ২০০০-২০১৫ সাল নাগাদ প্রায় ১.৪ শতাংশ বন হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ বন ধ্বংস হচ্ছে দখলের মাধ্যমে। বন বিভাগের তথ্যমতে সারা দেশে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বন মানুষের দখলে চলে গেছে। ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গড়ে ২৫ হাজার একর বনভূমি দখল হয়েছে। এসব বন ধ্বংসের কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণী। এ ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর নেচার কনজারভেশনের ২০১৫ সালের প্রতিবেদন মতে বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা ৩১টি। ১৬০০ প্রাণী প্রজাতির মধ্যে ৩৯০টি হুমকির মধ্যে রয়েছে। আর ৫০টির বেশি প্রজাতি ঝুঁকিতে রয়েছে। আইইউসিএনের ২০০০ সাল ও ২০১৫ সালের প্রতিবেদন তুলনা করলে দেখা যাবে এই বিলুপ্তির হার অত্যাধিক। ২০০০ সালে বিলুপ্ত প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা ছিল ১৩টি। অর্থাৎ ১৫ বছরে ১৮টি প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে- যা ভয়াবহ বিলুপ্তির হারকে নির্দেশ করছে। বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে- ডোরাকাটা হায়েনা, ধূসর নেকড়ে, নীল গাই, সুমাত্রা গণ্ডার, জাভা গণ্ডার, ভারতীয় গণ্ডার, শিঙা হরিণ, মন্থর ভালুক ইত্যাদি। আইইউসিএন-এর মহাবিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় আছে হাতি, ভোঁদড়, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতা, বনরুই, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, বনগরু, সাম্বার হরিণ, কাঠবিড়ালি, কালো ভালুক প্রভৃতি।

সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বন উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে সারা দেশে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ দশমিক ৮৪ একর বেদখল হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩ একর সংরক্ষিত বন। বনভূমি দখল করে আছে এমন ৮৮ হাজার ২১৫জন চিহ্নিত করা আছে। কিন্তু বনখেকো জানা থাকলেও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পত্রিকায় প্রকাশ অনেক ক্ষেত্রে মামলা করেই দায় সেরে ফেলা হচ্ছে। বনের জমি দখল করে এখানে শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে রিসোর্ট, বসতভিটাও বানানো হয়েছে। এমনকি বনের জমি দখল করে চাষাবাদও করা হচ্ছে। একটি তথ্যমতে এক লাখ ৬০ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বনভূমি দখল করে আছে।

চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের বন বেশি হুমকির মুখে। ২৮টি জেলায় দখলকৃত বনভূমি রয়েছে। বনবিভাগের তথ্য মতে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে কক্সবাজার। কক্সবাজার জেলায় দকলকৃত বনভূমির পরিমাণ ৫৯ হাজার ৪৭১ একর। শেরপুরের বনের অবস্থাও খারাপ। এখানকার তিনটি উপজেলায় বনের জমি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বনের জমি কাদের দখলে রয়েছে তাদের একটি তালিকা করা গেছে। এই তালিকাটি প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার একটি নথি। সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সভায় বলা হয়েছে তালিকায় প্রভাবশালীদের নাম থাকায় বনের জমি উদ্ধার করা হচ্ছে না। এর আগে ২০১৯ সালেও অবৈধ দখলদারদের নাম সবার সামনে আনা হবে বললেও তা আর হয়নি। আমরা হতাশ হতে চাই না। আশা করি আমরা ধীরে ধীরে সমস্ত জমি উদ্ধার করতে পারব।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে- বছরের জুন মাস থেকে শুরু করে আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ধস শুধু কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতেই হচ্ছে নাÑ বৃহত্তর সিলেট, বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের যেকোনো পাহাড়-অঞ্চলেই এমন ধসের ঘটনাগুলো ঘটছে। বলার অপেক্ষা রাখে না- সকল জায়গায় বর্তমানে একই ঘটনার কারণে পাহাড়ধসগুলো হচ্ছে। কারণগুলো আর কিছু নয়Ñ অবৈধ ও অপিরকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে থাকা বিপুল সংখ্যক গাছ নিধন করা। বৃক্ষ নিধনসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিপরীতে যেকোনো ক্ষতিকর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যদি এখনই সচেতন ও সোচ্চার না হওয়া যায় তাহলে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে যে ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তা আরো বাড়বে ছাড়া কমবে না। তাই সংগত কারণেই আমাদের অনতিবিলম্বে বৃক্ষ বিধন বন্ধসহ পরিবেশ রক্ষায় মনোযোগী হতে হবে।

ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র: কলাম লেখক, শিক্ষক ও গবেষক

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

  পরিবেশ সেন্টমার্টিন রক্ষায় বিকল্প কর্মসংস্থান ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫ ১৬:১২ পিএম ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপের নাম সেন্টমার্টিন। এটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত। কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থিত। দ্বীপটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানে রয়েছে ১ হাজারের মতো ঘর। ধারণা করা হয়, ৩০০ বছর আগে থেকে এখানে মানুষ বসবাস করছে। বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের পেশা মাছ ধরা। এরা কোরাল সংগ্রহও করে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, শামুক, কাঁকড়া, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী বসবাস করে। জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে ২৩৪ প্রজাতির মাছ, ৬৬ প্রজাতির কোরাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক জাতীয় প্রাণী, ৭ প্রজাতির কাঁকড়া, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির শৈবাল রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের তুলনায় এটি নানান কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এজন্য এর আলাদা বৈজ্ঞানিক মূল্যও অনেক বেশি। ২০২২ সালে সরকার এজন্য একে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। ২০...

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

হাতি সংরক্ষণ প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ড. বিভূতিভূষণ মিত্র প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১৭ এএম ড. বিভূতিভূষণ মিত্র বাংলাদেশে বসবাসরত হাতির নাম এশিয়ান এলিফ্যান্ট। এ হাতি খুব কম দেশেই দেখা যায়। বিশ্বের ১৩ দেশে এর বিচরণ। আইইউসিএনের মতে বাংলাদেশে তিন ধরনের হাতি রয়েছে। এগুলো হলো তাদের নিজস্ব আবাসস্থলে বসবাসরত হাতি, পরিব্রাজনকারী হাতি ও পোষ মানা হাতি। বন্য প্রাণীবিদদের মতে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এসব হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। একটি তথ্যমতে বাংলাদেশে আবাসস্থলে বসবাসরত হাতির সংখ্যা ২৬৮, পরিব্রাজনকারী হাতি ৯৩ আর পোষ মানা হাতি ৯৬টি। ২০১৯ সালের একটি তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা ছিল সে সময় ২৬৩টি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপমতে বাংলাদেশে বর্তমান হাতির সংখ্যা ২২৮ থেকে ৩২৭। মূলত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে হাতি দেখা যায় বেশি। মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বটা বেশি দেখা যায় সেখানেই। তবে শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন জায়গায়ও হাতি দেখা যায়। বন বিভাগের তথ্যমতে ২০০৪ সাল থেকে ১৭ বছরে ১১৮টি হাতি হত্যা করা হয়। আইইউসিএনের ২০২১ সালের তথ্যমতে বাংলাদেশে গত ১৭ বছরে ৯০টি হাতি হত্যা করা হয়েছে। প্রতি বছর শ্রীলঙ...

বন, বনভোজন ও পর্যটন শিল্প ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র

 বন, বনভোজন ও পর্যটন শিল্প ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র  আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১০:০৯ এএম|প্রিন্ট সংস্করণ পৃথিবীর অনেক দেশেরই বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম পর্যটন শিল্প। এটি এখন পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। কেননা একই সঙ্গে পৃথিবীতে যেমন পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি এর ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়নও সাধিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৫০ সালে পৃথিবীতে পর্যটকের সংখ্যা যেখানে ছিল ২৫ মিলিয়ন, তা ২০১৬ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজারে। আর ২০১৭ সালেই জিডিপিতে পর্যটন শিল্পের অবদান ছিল ১০.৪ ভাগ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই এমন অবদান দেখানো যাবে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন শিল্পের অবদান ছিল ৮৫০.৭ বিলিয়ন টাকা। পর্যটকদের সংখ্যাও অনেক ছিল। বাংলাদেশে ২০১৭ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ। আর দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা যোগ করলে এর সংখ্যা প্রায় চার কোটির কাছাকাছি চলে যাবে। এর ফলে এ খাতে বিনিয়োগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে অনেক। ২০১৭ সালের হিসাবমতে, পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে ২৪ লাখ ৩২ হাজার আর বিনিয়োগ হয়েছে ৪৩...